ভালোবাসার মানুষ চাই

ভালোবাসার মানুষ চাই

ভালোবাসার মানুষ চাই গল্পটা হচ্ছে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিলার মনের মানুষ খুজে নেয়ার গল্প। আর এর জন্য নিলাকে অনেক খারাপ মেয়ে হতে হয়েছিলো। চলুন তাহলে শুরু করি আর দেখি নিলা কি এমন খারাপ কাজ করলো আর কিভাবে খুজে নিলো তার মনের মানুষ।

ভালোবাসার মানুষ চাই

ভালোবাসার মানুষ চাই
ভালোবাসার মানুষ চাই

নিলা আজকের বাসায় একা। তার মামা অনেক অসুস্থ তাই তার বাবা মা দুজনেই গেছেন তার মামা কে দেখতে। কিন্তু নিলার মামাকে নিয়ে এখন ঢাকা যেতে হবে। তাই নিলাকে আজকের রাতে একাই থাকতে হবে বাসায়!

কিন্তু নিলা তো একা থাকতে পারবে না বাসায়। তাই পাশের ফ্লাটের সাকিবের বাবা মা কে নিলার মা বলে গেছেন যে যদি তারা আসতে না পারে রাতে তাহলে যেনো নিলার সাথে ওনাদের পরিবারের কেউ একজন গিয়ে থাকেন।

ওনাদের পরিরবারের সবাই খুব ভালো। কিন্তু একটা তো সমস্যা হয়ে গেছে! সাকিবের দাদী হঠাত করে অসুস্থ হয়ে গেছেন। তাই সাকিবের বাবা মা কে এখনই তাদের দেশের বাড়ি যেতে হবে সাকিবের দাদীকে আনতে।

সাকিবের দাদীর অবস্থা খুব খারাপ তাই শহরে এনে ভালো ডাক্তার দেখাতে হবে। তাই রাতেই সাকিবের বাবা মা চলে গেলেন সাকিবদের দেশের বাড়িতে। যাবার আগে সাকিবের মা নিলার সাথে দেখা করে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কি কথা হয়েছিলো সেটা তারাই ভালো জানেন।

তবে সাকিবের মা সাকিবকে বলে গিয়েছিলো পাশের ফ্লাটের নিলাকে যেনো একটু পরে পরে গিয়ে দেখে আসে আর আজকে রাতে একটু জেগে থাকতে। কারন নিলাকে বার বার দেখে আসতে হবে যেনো ও ভয় না পায় আর এমনিতে যদি কোনো দরকার হয় তাই, কারন সাকিবের দাদীর অবসস্থা খুবই খারাপ।

সাকিব নিলার সাথে দেখা করতে গেলো। নিলার একটু একটু ভয় ভয় লাগছিলো। কলিং বেল বাজাতে নিলার মনের ভয় একেবারেই দূর হয়ে গেলো। কেউ তো এসেছে। নিলা দরজা খুলে দেখে সাকিব।

সাকিব ঃ তোমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো? সমস্যা হলে জানিয়ো।

নিলা ঃ ভেতরে আসো।

(সাকিব অবাক হয়ে গেলো এই জন্য যে নিলা কোনো উত্তর না দিয়েই ভেতরে যেতে বলছে। আর নিলার চোখমুখে কেমন যেনো একটা ভাব।)

সাকিব ঃ না, আজকে আর আসবো না। তোমার কোনো সমস্যা হলে ডাক দিয়ো।

নিলা ঃ এই টিকটিকি, ভেতরে এসো বলছি! (সাকিবকে টেনে ভেতরে নিয়ে গেলো নিলা)

সাকিব নিলাকে টিকটিকি বললো কেনো!

চলুন তাহলে এই টিকটিকি নামের রহস্য খুজে বের করি। আসলে নিলা আর সাকিব একই কলেজে পরে। একবার কলেজে সাকিব একটা টিকটিকি দেখে ভয়ে চিৎকার দিয়েছিলো। এরপর থেকে কলেজে সবাই সাকিবকে টিকটিকি বলে ডাকে।

নিলা অনেক রাগি একটা মেয়ে। আর সাকিব সেটা খুব ভাল করেই জানে। কারন এখনো পর্যন্ত ২৩ টা ছেলের গালে ঠাস ঠাস করে থাপ্পর মেরেছিলো নিলা। আসলে নিলা অনেক সুন্দরী অনেক হট মেয়ে আর তাই অনেক ছেলে ওকে প্রপোজ করতে এসে থাপ্পর খেয়েছিলো।

সাকিব সেই ভয়ে নিলার থেকে ১০ হাত দূরে দূরে থাকে। একই বাসায় থাকে, তবুও কখনো এক সাথে কলেজ থেকে বাসায় ফেরেনি তারা। এমনকি কথাই বলেনি তারা আজকের আগে কখনো।

যাই হোক। নিলার হুকুম যে আজকের সাকিব নিলাদের ঘরে থাকবে আর তাই সাকিবেকে নিলা বললো যে ওদের ফ্লাটে ভালো ভাবে তালা দিয়ে আসতে। সাকিব বাধ্য ছেলের মতো ওদের ফ্লাটে তালা দিয়ে নিলাদের ফ্লাটে আসলো।

এসেই যা দেখলো সাকিব তাতে লজ্জায় চোখ নিচে নামিয়ে ফেললো।

নিলা ওর জামা খোলার চেষ্টা করছে কিন্তু একা খুলতে পারছে না। আর ওর ব্রা টা দেখা যাচ্ছে। লাল রঙের ব্রা পরেছে নিলা। সাকিব সামনে আছে টের পেয়ে নিলা সাকিবকে বললো,

নিলা ঃ এই, একটু আমাকে help করো তো। একা খুলতে পারছি না জামাটা।

সাকিব ঃ আমাকে বলছো! (মাথা নিচু করে)

নিলা ঃ না, এখানে যে সাকিব নামে ভুত আছে তাকে বলছি।

সাকিব অনেক লজ্জা পাচ্ছে, অন্য দিকে তাকিয়ে কোনো রকম ভাবে নিলাকে জামাটা খুলতে সাহায্য করলো সে।

তারপর নিলা অন্য একটা জামা নিয়ে পরে ফেললো। সাকিবের দিকে তাকিয়ে দেখে ও এখনো মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।

নিলা ঃ জামা পরে ফেলেছি। এবার তাকাতে পারো।

সাকিব একটু একটু করে তাকালো নিলার দিকে। খুব সুন্দর লাগছে নিলাকে। টাইট টাইট একটা জামা পরছে ও। আর জামাটা বুকের দিকে অনেকটা খোলা। নিলার বুকের দুধের অনেকটা দেখা যাচ্ছে।

সাকিব আর দ্বিতীয়বার নিলার দিকে তাকালো না।

তারা দুজন মিলে অনেক গল্প করছে। মনে এমন মনে হচ্ছে যেনো দুজনের মনে কতো কথা জমা ছিলো যা আজকে বলে হাল্কা হচ্ছে তারা।

নিলা আজকের নিজের হাতে রান্না করেছে। রাতের খাবার সময় হয়ে গেছে। নিলা খাবার টেবিলে খাবার সাজিয়ে সাকিবকে ডাক দিলো তারপর একসাথে বসে রাতের খাবার খেলো তারা।

প্রায় ঘুমের সময় হয়ে এসেছে। সাকিব মোবাইলটা সামনে রেখে সোফাতে গিয়ে শুয়ে পরলো। আর অন্য দিকে নিলা ওর রুম থেকে সাকিবকে ডাক দিলো।

সাকিব নিলার রুমে গিয়ে দেখলো নিলার শরীর এক টুকরো কাপড় দিয়ে কোনো রকম ঢাকা। নিলা যঠেষ্ট পরিমান হট আর ওর দুধ গুলো অনেক বড়। বড় বড় দুধ প্রায় দেখা যাচ্ছে, সামানো একটু ঢাকা।

সাকিব কোনো ভাবেই আর নিলার দিকে তাকানোর সাহস পেলো না। নিলা সাকিববে রাগ রাগ একটা ভাব নিয়ে বললো ওর সাথে খাটে ঘুমাতে, ওর একা ভয় লাগে। সাকিব কোনো রকম খাটের এক কোনে গিয়ে শুয়ে থাকলো।

অঘুম একটা রাত গেলো দুজনের। ভোরের দিকে নিলার একটু চোখ লেগে গিয়েছিলো। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিলা দেখেলো তার শরীর কম্বল দিয়ে ঢাকা আর সামনে চা। সাকিব চা বানিয়ে রেখে গেছে নিলার জন্য।

এরপর ঐদিন সকালেই সাকিবের বাবা মা ওর দাদিকে নিয়ে চলে আসে শহরে আর নিলার বাব মা ও এসে পরে বাসায়।

পরের দিন নিলা আর সাকিব দুজনেই কলেজে গেলো যেমনটা সব সময় যেতো আর একা একাই বাসায় ফিরছিল সাকিব সব সময়ের মতো। হঠাত পেছন থেকে নিলার ডাক শুনতে পেলো সাকিব। পেছনে ফিরে দেখে নিলা।

নিলা ঃ বাসায় যাচ্ছো?

সাকিব ঃ হ্যা। তুমি?

নিলা ঃ আমি ও বাসায় যাচ্ছি।

সাকিব ঃ চলো।

(ওরা দুজন বাসার দিকে হাটা শুরু করলো। দুজনই চুপ চাপ। তারপর নিলাই শুরু করলো কথা।)

নিলা ঃ আমি জানি তুমি আমাকে একটা নষ্ট মেয়ে ভাবছো। আসলে আমি চেয়েছিলাম এমন একটা ছেলে আমার জীবন সঙ্গী হোক যে শুধু আমাকেই ভালো বাসবে, আমার শরীর আর আমার রুপকে না।

আন্টি, মানে তোমার আম্মু আমাকে তোমার বউ হিসেবে পছন্দ করেছেন। এই যে আমার হাতে একটা আংটি দেখতে পাচ্ছো, এটা তোমার আম্মু আমাকে পরিয়ে দিয়েছেন। (নিলা ওর হাতে পরা আংটি টা দেখালো সাকিবকে।)

তুমি জানো যে আমার পেছনে কতো ছেলে ঘুরে বেড়ায়। সবাই আমাকে না, আমার শরীরটা পেতে চায়। আমি চেয়েছিলাম এমন একজনের সাথে জীবন কাটাতে যে হবে সবার থেকে আলাদা।

গত পরশু রাতে তুমি সেটা প্রমান করে দিয়েছো যে তুমি অন্য সব ছেলের মতো না। আর আমার বাবা মা তোমাকে আমাদের ঘরে আসার জন্য অনুমতি দিয়েছিলো এই জন্য যে তোমার আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে তাই।

হয়তো তুমি জানো না, কারন আমি আন্টি আর আঙ্কেলকে অনুরোধ করেছিলাম যেনো তোমাকে এখন কিছু না জানায়।

গত পরশু যেই নিলা তোমাকে তার সবটা দিতে চেয়েছিলো সেটা আর কেউ ছিলো না, ছিলো তোমারই হবু বউ। হ্যা, আমিই তোমার হবু বউ। কিন্তু তুমি তোমার সততার পরিচয় দিয়েছিলে।

আমার যে কি খুশি লাগছে তোমার মতো কাউকে স্বামী হিসেবে পাবো বলে, সেটা আমি তোমাকে বোঝাতে পারবো না। আমার শুধু একটা ভালোবাসার মানুষ চাই, আমার আর কিছু বলার নেই।

(সাকিব অবাক হয়েছে কিছুটা নিলার কথা শুনে কিন্তু নিলার চোখ দিয়ে পানি পরছে। অনেক চেষ্টা করছে নিলা কিন্তু কোনো  ভাবেই চোখে পানি আটাকাতে পারছে না।)

সাকিব নিলার চোখে পানি মুছে দিচ্ছে। ওরা এখন রাস্তার মাঝে। নিলা তাই লজ্জা পাচ্ছে সাকিব ওর চোখে পানি মুছে দিচ্ছে বলে।

নিলা ঃ সবাই তাকিয়ে আছে। কি ভাবছে সবাই।

সাকিব ঃ আমি আমার হবু বউয়ের চোখের পানি মুছে দিচ্ছি, এতা কে কি ভাবলো সেটা আমার জানার দরকার নেই।

নিলা সাকিবের কথা শুনে মুচকি হাসছে আর লজ্জা পাচ্ছে।

সাকিব এবার নিলার হাত ধরে বাসার দিকে যেতে থাকলো। এভাবেই শুরু হলো দুটি মনের একসাথে পথ চলা। এভাবেই নিলা পেলো তার ভালো বাসার মানুষ আর শেষ হলো ভালোবাসার মানুষ চাই গল্প। এই ভালোবাসার মানুষ চাই বাংলা গল্প তে কিছু খারাপ ভাষার ব্যবহার করা হয়েছে যার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

ভালোবাসার মানুষ চাই গল্পটা ছিলো একটা মেয়ের বিয়ের আগে তার স্বামী কেমন সেটা বোঝার জন্য করা কিছু ঘটনা নিয়ে গল্প। আশা করি ভালোবাসার মানুষ চাই গল্প আপনাদের ভালো লেগেছে। এমন সব গল্প আরো পেতে আমাদের ওয়েবসাইট প্রতিদিন ভিজিট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *