ভালবাসার গল্প

ভালবাসার গল্প

ভালবাসার গল্প কেমন হওয়া উচিত? আর সত্যিকারের ভালবাসা কালে বলে? জানতে চান? তাহলে পড়ুন আমাদের এই বিয়ের পরের ভালবাসার গল্প যা আপনাকে শেখাবে কিভাবে বউকে ভালবাসতে হয় আর কেনো বিয়ের পরে বন্ধুদের থেকে দূরে থাকতে হয়। চলুন তাহলে শুরু করি ভালবাসার গল্প যা জীবন নিয়ে শেখাবে অনেক কিছু।

ভালবাসার গল্প

ভালবাসার গল্প
ভালবাসার গল্প

বিয়ের পর নাকি মেয়েদের জীবনে অনেক পরিবর্তন আসে। মুনার জীবনে ও এসেছে। তবে সেটা ভালো দিক নিয়েই এসেছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন অনেক ভালো। সাধারণত এতো ভালো পরিবার পাওয়া ভাগ্যের ব্যপার। মুনার স্বামী মাহিম নম্র ভদ্র ছেলে। মুনাকে অনেক ভালোবাসে সে। তবে মুনা একদিন মাহিমের ল্যাপটপে একটা মেয়ের ছবি দেখতে পায়।

মুনা যদিও জিজ্ঞেস করেছিল মাহিমকে যে মেয়েটা কে?? মাহিম বলেছে চিনি না ফেসবুকে পেয়েছিলাম তাই রেখেছিলাম। মুনা ও বিশ্বাস করে নিল। মুনা ও মাহিমের বিয়েটা পারিবারিক ভাবে হয়েছে। তাই একজন আরেকজন কে চিনতে জানতে একটু সময় লাগছে।

ভালোই কাটছে মুনা মাহিমের সংসারটা। মুনা এখন প্রায় অনেক রান্না ই নিজে নিজে করতে পারে। আর এই সব রান্না ই সে শিখেছে তার শ্বাশুড়ী মায়ের কাছে। মুনার পরিবার টা অনেক ছোট। মুনা, মাহিম, আর মাহিমের মা বাবা।

মাহিম তার মা বাবার একমাত্র ছেলে। তাই হয়তো মুনার এতো ভালোবাসা এতো আদর। মুনাকে খুব অল্প দিনেই আপন করে নিয়েছিল মাহিম ও তার পরিবার। আর তাছাড়া মুনাকে তারা নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসে। তার কিছু নমুনা হলো …..

একদিন মুনা মাহিমের ঝগড়া লাগলো। মাহিমের মা এসে মাহিমকে শাসন করে গেল। মাহিম বললো তুমি কার মা? আমার না ওর?? মাহিমের মা ও চট করে উত্তর দিলো ওর। মাহিম বেচারা বুঝে গেল তার আদরের দিন শেষ।

আরেকদিন মাহিম অফিস থেকে ফিরে দেখে মুনা তার শ্বশুরের সাথে বসে লুডু খেলছে। আর মুনার শ্বশুর চিটিংবাজি করাতে মুনার শ্বাশুড়ী মুনার শ্বশুর কে বকছে।

মোট কথা বাইরের কেউ দেখলে প্রথমে বলবে মুনা এই পরিবারের মেয়ে আর মাহিম এই পরিবারের মেয়ের জামাই।

কিন্তু সবার কপালে কি আর এতো সুখ সহ্য হয়!! মুনার সংসারেও এলো এক ঝড়। সেই ঝড়ে সব শেষ হয়ে যাবে …..

মুনা হঠাৎ ই বুঝতে পারে ও প্রেগন্যান্ট। মুনা বুঝার আগেই মুনার শ্বাশুড়ী বুঝে গেলো ব্যপারটা। সে তখনই সবাইকে জানিয়ে দিলো শুধুমাত্র মাহিম ছাড়া।

কারণ মুনা মাহিমকে বলতে বারন করেছে। কয়েকদিনের মধ্যেই মাহিমের জন্মদিন। তাই মুনা চায় খুশির খবরটা ঐ দিন ই দিতে।

আজকে মাহিমের জন্মদিন। ঘরোয়া ভাবেই দিনটি উদযাপন করবে বলে ভেবেছে মুনা। তাই শুধুমাত্র মুনার মা বাবা আর ছোট বোন মনি সবাই মুনার শ্বশুরবাড়িতে এসেছে।

কিন্তু বিকালে কেক কাটার আগে হঠাৎই মাহিমের কয়েকটা বন্ধু আর একটা বান্ধবী এসে সারপ্রাইজ দিলো মাহিমকে। তখন মুনাকে একটু খাবারের আয়োজনে ব্যস্ত থাকতে হয়। আর মুনাকে সাহায্য করতে তার মা ও শ্বাশুড়ী ও রান্নাঘরে যায়।

মুনার শ্বাশুড়ী মুনাকে রান্নাঘরে থাকতে নিষেধ করে। আর বলে আমরা পারবো তুই যা গিয়ে সবার সাথে কথা বল পরিচিত হ। তাই মুনা চলে গেল। গিয়ে সবাইকে দেখলেও মুনা মাহিমকে কোথাও পেল না।

মাহিম ছাড়া ওর বন্ধুদের সামনে যাওয়া টা ভালো হবে না তাই মুনা নিজেদের রুমে চলে এলো। এসে দেখলো মাহিম আর ঐ মেয়েটা কথা বলছে। তাদের কথা শুনে মুনা বুঝতে পারল মেয়েটার নাম জয়া।

জয়া : সুখে আছো তাইনা?? তোমার এই সুখ আমার সহ্য হচ্ছে না মাহিম।
মাহিম :সহ্য না হওয়ার কি আছে সেটাই তো বুঝলাম না। আর আমাকে একা এভাবে ডেকে আনার মানে কি?
জয়া :কেন তুমি বুঝ না?
মাহিম :না। তোমার বিয়ে হয়ে গেছে আমার ও। তুমি তোমার life এ খুশী আমি আমার life এ খুশী। এর পরে আর কিছু আছে বলে তো মনে হয় না।

মুনা খুব ভালো করেই বুঝে গেল জয়া মেয়েটি মাহিমের ex gf ছিলো। মুনার চিনতে ও বাকি রইলো না এই মেয়ের ছবি ই দেখেছিল মাহিমের ল্যাপটপে। এখন সে প্রায় সবটা বুঝে গেছে।

হঠাৎ ই মুনার কানে এলো

জয়া :আমি প্রেগন্যান্ট মাহিম
মাহিম : what!!
জয়া : হ্যাঁ।

মুনার চোখে পানি চলে এলো। সে আর শুনতে পারবে না তাই কাদতে কাদতে সেখান থেকে চলে গেল। মুনা সেখান থেকে সরাসরি বাগানে গিয়ে বসলো। তখন সে ভাবতে লাগলো তার জন্যই হয়তো মাহিম আর জয়া এক হতে পারেনি। আর তাছাড়া মাহিম এখনো জয়াকেই ভালোবাসে নয়ত জয়া প্রেগন্যান্ট হলো কিভাবে!!

রাগে অভিমানে সে মাহিমের জীবন থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং মুনার বাবার বাড়ি চলে যায়। এদিকে মুনা চলে যাওয়ার পরে মাহিম জয়াকে থাপ্পড় দেয় কারন মাহিম জয়াকে ভালোবাসত ঠিকই কিন্তু কোনদিন গায়ে হাত দেয়নি।

আর জয়া মিথ্যা বলার কারণ জয়া মুনাকে দেখে ফেলেছিল সব কথা শুনতে। কিন্তু পরিস্থিতি এমন হবে তা জয়া ভাবতে পারেনি। মাহিম জয়াকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

তখন মাহিমের মা মুনাকে খুজতে লাগলো কারণ মুনা এসব শুনলে ভুল ভাববে। মাহিমের মা সাড়া বাড়ি খুজেও যখন মুনাকে পেলো না তখনই তিনি বুঝে গেল মুনা সব শুনে ফেলেছে।

আর মুনা যে বাড়িতে নেই সেটাও তার বুঝতে বাকি রইলো না। সে সাথেসাথে মাহিমকে গিয়ে বললো মুনা সব শুনে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। আর মুনা একা যায়নি সাথে মাহিমের baby ও আছে।

মাহিম তো শুনে ভয় পেয়ে গেল। কারণ সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সন্ধ্যার পরে মুনা একা কোথায় গেলো!! তাও আবার ও প্রেগন্যান্ট।

সবাই ভীষণ টেনশনে পরে গেল মুনাকে নিয়ে।

অবশেষে খুজে পাওয়া গেছে মুনা কে। মুনার মা মনিকে বাসায় রাখতে এসে দেখে মুনা এই বাসায়। তখন ফোন দিয়ে মুনার শ্বশুর বাড়ির সবাইকে বললো মুনা এখানে।

মুনা মাহিমের সংসারটা একটু বড় হয়ে গেছে এখন। সেই সাথে সুখ গুলো ও বেরে গেছে অনেক। বেড়েছে স্বপ্ন।

 

কিছু কিছু মেয়ে আছে যারা চায় দুনিয়ার সব ছেলেই তাদের পেছনে ঘুরুক আর তারা মজা নিবে। এমনকি তারা তাদের বন্ধুদের সংসার ভাঙ্গতে ও দ্বিধা করে না। আজকের ভালবাসার গল্প আপনাদের এমন কিছু শিখিয়েছে যে আপনি আপনার বন্ধুদের বিয়ের পরে কাছেই ঘেষতে দিবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *