বাসর রাতে ভালোবাসার গল্প

বাসর রাতে ভালোবাসার গল্প

বাসর রাতে ভালোবাসার গল্প নিয়ে আজকের হাজির হয়েছি আপনাদের সামনে। আজকের গল্পের নায়ক হচ্ছে রাশেদ আর নাইকা হচ্ছে ইতি। রাশেদ আর ইতি অনেক পুরানো বন্ধু। কি করে যে ওদের বিয়ে হয়ে গেলো সেটা হয়তো ওরা নিজেরাই বুঝতে পারেনি এখনো। সারাদিন বিয়ে বাড়িতে কতো কাজ বর আর কনের! ( আসলে কাজ তো সাজ গোজ করে সবার সাথে হায় হ্যালো করা। ) এরপর বাসর ঘর।

বাসর রাতে ভালোবাসার গল্প

বাসর রাতে ভালোবাসার গল্প
বাসর রাতে ভালোবাসার গল্প

রাশেদ আজকে খুব কাজ দেখাচ্ছে সবাইকে। আসলে কোনো কাজ নেই তবে নিজে নিজেই কতো কাজ বের করে!

বেপারটা কি! এমনিতে যেই রাশেদ কে দিয়ে কোনো কাজ আদায় করা খুব মুশকিল সেখানে সে আজকের এতো কাজ কর্ম করছে যে!

আসলে হয়েছে টা কি, সে ইতির সামনে যেতে ভয় পাচ্ছে আর অনেক লজ্জা ও পাচ্ছে। তাই এটা সেটা কাজের বাহানা দিয়ে সে যতটা সম্ভব ইতির থেকে দূরে দূরে আছে।

দূরে আর কতোক্ষন থাকবে? তাকে তো আজ ইতির সামনে যেতেই হবে। আর ইতিও বসে আছে রাশেদকে ধোলাই করার জন্য!

আসলে হয়েছে কি, ইতি আর রাশেদ দুজন দুজনকে ভালোবাসতো আর এখনো ভালোবাসে। কিন্তু রাশেদের মাথায় একটু সমস্যা ছিলো। না মানে ইতি বলে আর কি। রাশেদের মাথায় একটু সমস্যা আছে তাই রাশেদ নাকি বুঝতেই পারে না সে যে রাশেদকে কতোটা ভালোবাসে।

রাশেদ তো ইতিকে বিয়েই করতে চায়নি। পরে কিভাবে কিভাবে যেনো অবশেষে হয়ে গেলো বিয়েটা। কিন্তু রাশেদ পুরানো কথা ভেবেই ভয় পাচ্ছে ইতির সামনে যেতে।

অনেক রাত হয়ে গেছে। সবাই অবশেষে জোর করে রাশেদকে বাসর ঘরে পাঠালো। রাশেদ আস্তে আস্তে ভয় ভয় ভাব নিয়ে বাসর ঘরে ঢুকলো।

ইতি বসে আছে খাটে। রাশেদ ঘরের ভেতরে এসেছে দেখে ইতি খাট থেকে নেমে রাশেদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো।

এদিকে রাশেদের তো বুক ধপ ধপ করছে। কি করবে ইতি! সামনে কেনো আসছে! এই সব ভাবছে রাশেদ।

ইতি রাশেদের সামনে এসে রাশেদের পায়ে ধরে সালাম করলো।

রাশেদ ঃ এই এই, কি করছো, ওঠো ওঠো।

( ইতি মাথা উঠাচ্ছে না। হয়তো লজ্জা পাচ্ছে। রাশেদ ইতিকে নিয়ে বিছানায় বসালো। তারপর বেশ কিছুক্ষন তারা চুপচাপ ছিলো। কেউ কোনো কথ বলেনি। পরে রাশেদ শুরু করলো কথা বলা। )

রাশেদ ঃ বিয়ে টা তাহলে হয়ে ই গেলো।

ইতি ঃ হুম।

রাশেদ ঃ আমি কখনো ভাবিনি যে তুমি আমার বউ হবে।

ইতি ঃ হুম।

রাশেদ ঃ আসলে আগের সব কিছুর জন্য sorry.

ইতি ঃ it’s ok.

রাশেদ ঃ তোমার শাড়িটা অনেক সুন্দর।

ইতি ঃ হুম।

রাশেদ ঃ তোমার চুড়ি গুলো ও অনেক সুন্দর।

ইতি ঃ হুম।

রাশেদ ঃ তোমার মেহেদিটা ও অনেক সুন্দর হয়েছে।

ইতি ঃ সবই তো সুন্দর, কিন্তু আমি? আমি কি সুন্দর না? ( রাশেদ  একটু ভয় পেয়ে গেলো। ইতি এতোক্ষন পরে কথা বলেছে, হুম ছাড়া অন্য কিছু বলেছে, কিন্তু মনে হচ্ছে রেগে গেছে। )

রাশেদ ঃ তোমার ঘোমটা টা একটু তুলি?

ইতি ঃ কেনো!

রাশেদ ঃ না, মানে, তোমাকে তো দেখিনি এখনো, তাই তোমার প্রশ্নের উত্তর এর পেতে ঘোমটা টা একটু তুলতে হবে মনেহয়।

ইতি ঃ মনেহয়!

রাশেদ ঃ না, মানে, তুলতে হবে। তুলতে হবে।

ইতি ঃ কি তুলতে হবে?

রাশেদ ঃ ঘোমটা।

ইতি ঃ তুলতেই হবে?

রাশেদ ঃ তুললে ভালো হতো না? অনেক গরম তো। চেহারা ঘেমে যাবে তোমার এতোক্ষন ঘোমটা দিয়ে রাখলে।

ইতি ঃ শীতকালে গরম আর ঘাম! ভালোই বললা।

রাশেদ ঃ একটু খোলো না ঘোমটা টা, একটু দেখি তোমাকে।

ইতি ঃ এতো দেখা লাগবো না।

রাশেদ ঃ আচ্ছা।

ইতি ঃ কি আচ্ছা?

রাশেদ ঃ কিছু না।

ইতি ঃ কারো আমাকে দেখতে ইচ্চা করলে সে যেনো নিজে নিজে ঘোমটা খুলে দেখে নেয়।

রাশেদ এবার একটু মনে সাহস পেলো। সাহস করেই ইতির সামনে গিয়ে ঘোমটা টা খুললো। অনেক সুন্দর লাগছিলো ইতিকে বধু বেশে। রাশেদ অনেক্ষন তাকিয়ে আছে ইতির দিকে।

ইতি লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে আছে। আর মুচকি হাসি দিচ্ছে।

রাশেদ ইতিকে দেখছে আর মনে মনে ভাবছে যে এই জল্লাদ মেয়েটা এতো শান্ত হয়ে আছে কি করে!

রাশেদ হুট করে মনের কথা মুখে বলে ফেলে ইতিকে।

রাশেদ ঃ তোমাকে কতো সুন্দর লাগে শান্ত অবস্থায়। আগে অন্য রকম ছিলে।

ইতি ঃ কি রকম ছিলাম আগে?

রাশেদ ঃ জল্লাদ এর মতো ছি ( পুরো কথাটা আর শেষ করেনি রাশেদ। শেষ করার আগে নিজেই নিজের মুখ চেপে ধরে। )

ইতি ঃ কি বললা! আমি জল্লাদ ছিলাম! দাড়াও তোমারে দেখাইতাছি জল্লাদ কারে কয়।

আজকে রাশেদের খবর আছে। আগে তো রাশেদের অনেক সুযোগ ছিলো কারন এর আগে প্রতিবার ইতির সাথে ঝগড়া হয়েছে বাইরে আর না হয় ফোনে। কিন্তু আজকে তো রাশেদে পালাবার জায়গা ই নেই!

ইতি রাশেদকে বালিস দিয়ে মারছে। ( এটা কে আর মারা বলে! এককথায় বলতে গেলে অভিমানী আদরই বলে। )

হঠাত করে ইতি খাট থেকে পরে যাচ্ছিলো আর রাশেদ জড়িয়ে ধরে ইতিকে।

ইতির লজ্জা লাগছে।

ইতি ঃ ছাড়ো আমাকে।( লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে। )

রাশেদ ঃ আর ছাড়বো না তোমাকে, অনেক কষ্টে পেয়েছি।

ইতি ঃ তাই বুঝি? ( লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে। )

রাশেদ ঃ হুম। অনেক ভালোবাসি তোমায়।

এভাবেই শুরু হলো নতুন একটা সংসার আর দুটি মনের এক সাথে পথ চলা। আমাদের বাসর রাতে ভালোবাসার গল্প আপনাদের ভালো লেগেছে বলে আশা করছি।

যদি আরো বাসর রাতে ভালোবাসার গল্প পেতে চান তাহলে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন। আমরা প্রায় প্রতিদিন নতুন গল্প আপলোড করে থাকি আমাদের এই ওয়েবসাইটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *