পিচ্চি বউ ভালোবাসার গল্প

পিচ্চি বউ ভালোবাসার গল্প

পিচ্চি বউ ভালোবাসার গল্প টা হচ্ছে দুই আত্বীয়র মাঝে ভালবাসার গল্প। মাঝে মাঝে কিছু সম্পর্ক হয়ে যায় আত্বীয়দের মাঝে। আর এই সম্পর্কগুলো অনেক মজার হয়। কারন আত্বীয় হবার কারনে দেখা সাক্ষাতের বেপারে কোনো বাধা থাকে না তাই প্রেমটা হয়ে যায় খুব সহজে। চলুন তাহলে শুরু করি পিচ্চি বউ ভালোবাসার গল্প যে গল্পে আছে ছোট বেলার অনেক দুষ্টুমি।

পিচ্চি বউ ভালোবাসার গল্প

পিচ্চি বউ ভালোবাসার গল্প
পিচ্চি বউ ভালোবাসার গল্প

সাকিব আজ অনেক তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে গেল। কালকে সারারাত ঘুম হয়নি সাকিবের। সারারাত বসে বসে নিজের রুম গুছিয়েছে। কিনে রাখা গল্পের বই গুলো সেলফ এ সাজিয়ে রেখেছে। খুব সকালেই আবার ঘুম ভেঙে গেছে। সাকিব অনেক উত্তেজিত হয়ে আছে। সারাক্ষণ ছটফট করছে। ঘুম থেকে উঠেই রেডি হয়ে নিচে গেল সাকিব। খাবার টেবিলে বসেও খাওয়ার দিকে মন নেই ওর। কোন রকমে চঞ্চলতা কে চাপা দিয়ে আছে ও। হঠাৎ ই সাকিবের মা সাকিব কে বলে উঠলো
মা : সাকু কোথাও যাবি রে??
সাকিব :না তো মা! কেন?? কিছু এনে দিতে হবে??
মা : তোর আব্বু তো সেই সকালে মাছ আনতে গেসে এখনো আসে নাই এদিকে জেরিন কে ইস্টিশন থেকে কে আনবে!!
সাকিব : কেন ও একা আসতে পারবো না???
মা : একা আসবো কেন!!! যা তুই গিয়া নিয়া আয়।
সাকিব :মা কি যে বলো না তুমি!!
মা : যা বলসি তাই কর।
সাকিব : আচ্ছা।
সাকিব মনে মনে অনেক খুশি। কারণ ও জেরিন এর জন্য ই এতো কিছু করেছে। সকালসকাল ঘুম থেকে উঠেছে। শুধু মুখেই একটু না করলো। জেরিন সাকিবের চাচাতো বোন। এবার ক্লাস ৮ এ উঠেছে। বার্ষিক পরীক্ষা শেষ তাই জেঠুর বাসায় বেড়াতে আসছে। প্রতি বছরই এইদিনে জেঠুর বাসায় আসে জেরিন। তারপর কিছুদিন থেকে যায়। ওকে ছোটবেলা থেকেই সাকিব ভালোবাসে। কিন্তু এখনো ওকে কিছুই জানায়নি সাকিব। পিচ্চি মানুষ তো তাই। সাকিব এবার গ্রাজুয়েশন কম্পিলিট করেছে। দুই ভাইবোনের মধ্যে সাকিব বড় আর রিতু ছোট। রিতু ও এবার ক্লাস ৮ এ উঠেছে কিন্তু ও জেরিন এর চেয়ে বয়সে বড়। আর জেরিনের মতো এতো বইপোকা না। সাকিব তাড়াতাড়ি খেয়ে ইস্টিশনে চলে গেল সাকিব। ট্রেন এখনো আসে নি। স্টেশন মাস্টারের কাছে জানলো কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেন চলে আসবে। ট্রেন আসলো যথাসময়ে। সাকিব ভালো করে লক্ষ্য রাখলো কোথাও জেরিন কে দেখা যায় কিনা। কিন্তু কোথাও নেই জেরিন। এবার ই প্রথম জেরিন একা আসছে এখানে। ওর বাবা ওকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়েছে। কোন এক কারণে চাচা আসতে পারে নি সাথে। টেনশন লাগছে সাকিবের। হঠাৎ ই জেরিন নামলো ট্রেন থেকে। সবার শেষের যাত্রী বোধহয় ও ই। সাকিব গিয়ে ওর সামনে দাড়ালো।
সাকিব : কিরে? এত তাড়াতাড়ি নামলি যে! আমি তো চলে যাচ্ছিলাম।
জেরিন : বড় ভাইয়া তুমি! কেমন আছো? অনেক ভিড় ছিলো ভাইয়া তাই নামি নাই এতক্ষণ।
সাকিব : ভালো করেছিস। চল বাসায় যাই। বস্তা গুলো দে
জেরিন :বস্তা না ভাইয়া ব্যাগ।
সাকিব : অই একই।
জেরিন :ভাইয়া জেঠু আসেনি কেন??
সাকিব : আব্বু মাছ কিনতে গেছে। তুইতো কানি মাছ বাছতে পারিস না তাই বড়মাছ কিনতে গেছে আব্বু।
জেরিন :ভাইয়া আমি মোটেও কানা নই।
সাকিব :আমি কখন বললাম কানা! আমি তো কানি বলসি।
জেরিন :এ এ এ!! বাসায় যাও না তারপর সব জেঠুমা কে বলবো। বকা খাওয়াবো তোমাকে।
সাকিব :বকা খাওয়াবি? আচ্ছা খাওয়াস। আমিও তোকে কানির পাশাপাশি বুচি বলে ডাকবো।
জেরিন :কি!! আমি বুচি!! মোটেও আমি বুচি না!!
সাকিব আর জেরিন বাসায় এলো। রিকশায় একসাথে বসতে জেরিনের লজ্জা লাগছিল তাই সাকিব ওকে এক রিকশায় তুলে অন্য রিকশায় নিজে উঠে। আসার সময় সাকিব ভাবতে লাগলো জেরিন টা বড় হয়ে গেছে। চুল গুলো ও বড় হয়েছে। সালোয়ার কামিজ পড়ায় ভালোই লাগছে ওকে। ভাবতে ভাবতে বাসার সামনে চলে আসলো।

রিতু :কিরে! কেমন আছিস??
জেরিন : ভালো। তুমি কেমন আছো রিতু আপু?? জেঠুমা কেমন আছে?
রিতু :মা রান্না ঘরে।
জেরিন : জেঠুমা র সাথে কথা বলে আসি আমি।

জেরিনের থাকার যায়গা হলো রিতুর রুমে। তাই সারাদিন ও আর রিতু ওদের রুমেই গল্প করতে থাকে। সাকিবের তাই রাগ হলো। জেরিন কে এক বাসায় থেকেও দেখতে পাচ্ছে না। রেগে মেগে বাসা থেকে বের হলো সাকিব। রাস্তায় দেখা হলো সাকিবের বন্ধু রাসেলের সাথে। রাসেল প্রথমেই জিজ্ঞেস করলো কিরে পিচ্চি ভাবি কেমন আছে?
সাকিব :জানি না
রাসেল : জানি না মানে? কথা হয় নাই?
সাকিব : না।
রাসেল : কেন??
সাকিব : আমার সামনেই আসে না। আগে সারাক্ষণ আমার পাশেপাশে থাকতো, এটা সেটা আবদার করতো। আর এবার! খাওয়ার সময় ছাড়া দেখা ই পাই না।
রাসেল :বড় হয়ে গেছে তো তাই হয়তো। আচ্ছা দোস্ত ও আবার কাউকে ভালবাসলো না তো??
সাকিব : কি বলিস! ও ঐ রকম না রে। পিচ্চি এখনো।
রাসেল :ঢাকায় থাকে প্রেম করতে কতক্ষণ?
সাকিব :তাও ঠিক। আমার ভয় লাগতাছে রে। কি করবো??
রাসেল : বলে দে ওকে।
সাকিব :যদি কান্না করে?? সবাইকে বলে দেয়??
রাসেল :দিবো না। বলেই দেখ
সাকিব : আচ্ছা দেখি কি করা যায়।

সাকিব বাড়ি ফিরে দেখলো জেরিন আর রিতু সাকিবের রুমে। সাকিব যে বই গুলো সাজিয়ে রেখেছিলো জেরিনের জন্য, জেরিন সেখান থেকে একটা বই পড়ছে আর রিতু বকবক করছে। সাকিব জেরিন কে দেখেই বুঝে গেল জেরিন রিতুর কোনো কথা শুনছে না। ব্যাপার টা হাস্যকর মনে হওয়ায় সাকিব হেসে দিল। জেরিন আর রিতু সাকিবের দিকে ফিরে তাকালো।
জেরিন :কেমন আছো বড় ভাইয়া?
সাকিব : ভালো। তুই কেমন আছিস?
জেরিন :ভালো। ভাইয়া এই বইটা আমি পড়ি??
সাকিব : পড়। রিতু যা পানি নিয়ে আয় তো খাবো।
(রিতু পানি আনতে গেল)
সাকিব :পিচ্চি গাছ লাগাবি??
জেরিন :গাছ :D। কোথায় লাগাবে ভাইয়া?? আমিও লাগাবো
সাকিব :তোদের পুকুর পাড়ে। যাবি?
জেরিন :হ্যাঁ। চলো আমরা যাই। (রিতু পানি নিয়ে এলো) রিতু আপু চলো গাছ লাগাবো আমরা
রিতু: কই?
সাকিব : পুকুর পাড়ে।
রিতু :ধুর আমি যাবো না। তোমরা ই যাও
সাকিব :আচ্ছা ঠিক আছে।চল পিচ্চি।
জেরিন :চলো ভাইয়া যাই।
(পুকুর পাড়ে এসে)
সাকিব :পিচ্চি? একটা কথা বলবো কাউকে বলবি না তো?
জেরিন :কি কথা বড় ভাইয়া??
সাকিব :ঐ তুই আমারে বড় ভাইয়া বলস কেন??
জেরিন :তাইলে আর কি বলমু? তুমি তো আমাদের সবার বড় তাই বড় ভাইয়া বলি
সাকিব :আর বলবি না।
জেরিন :আচ্ছা! তাইলে কি বলমু?? দাদা ভাই?
সাকিব :ইস! না।
জেরিন :তাইলে?
সাকিব :শোন, আমি তোকে ভালোবাসি।
জেরিন : এ এ এ!! কি বলো এসব ভাইয়া ?
সাকিব :ঠিক ই বলসি। তুই আমার পিচ্চি বউ।
জেরিন :ছি ভাইয়া। আমি এসব কোনদিন ভাবি ই নাই। আর তুমি!! কেউ জানলে কি বলবো ভাবসো??
সাকিব :তুই আমারে ভালোনাবাসলে আমি এই পুকুরে ঝাপ দিমু কিন্তু।
জেরিন :তুমি পাগল হইয়া গেসো ভাইয়া। যা খুশি করো আমি গেলাম।
(এই বলেই জেরিন ফিরে যেতে লাগলো আর তখনই ই ঝপাস করে পানিতে কিছু পরার আওয়াজ হলো। জেরিন থমকে গেল। ফিরে তাকাল জেরিন। দেখলো সাকিব নেই। ভয় পেয়ে গেল।)

জেরিন :বড় ভাইয়া?? সাকিব ভাইয়া? ও সাকিব ভাইয়া?
(কোন সাড়া শব্দ নেই)
জেরিন :অ ভাইয়া?? কই তুমি?? ভাইয়া? আমার ভয় লাগতাছে তো?? ও ভাইয়া?? :'( :'( :'(
(কেদে দিলো)
জেরিন :কি করলা এটা?? ও ভাইয়া?? ফিরে আস প্লিজ।আচ্ছা যাও আমিও তোমাকে ভালবাসি। প্লিজ ফিরে আস :'( :'( :'( :'(

সাকিব : সত্যি আমার পিচ্চি?
জেরিন :তুমি মরো নাই!??
সাকিব :এতো তাড়াতাড়ি মরলে তোকে বিয়ে করবে কে? হ্যাঁ??
জেরিন :যাও কথা বলবা না আমার সাথে আর। আমি কতটা ভয় পাইসি যানো?
সাকিব : সরি বউ!
জেরিন : কি!!
সাকিব :অপস সরি সরি পিচ্চি বউ

 

আশা করি পিচ্চি বউ ভালোবাসার গল্প আপনাদের ভালো লেগেছে। আরো নতুন গল্প পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন আর ভিজিট করুন প্রতিদিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *