নিঃশব্দ ভালোবাসার গল্প

নিঃশব্দ ভালোবাসার গল্প

নিঃশব্দ ভালোবাসার গল্প টা খুব অসাধারন একটা ভালবাসার গল্প যে গল্পে আছে কিভাবে একটা ছেলে আর মেয়ের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো কেউ কাউকে না দেখে! এটাও কি সম্ভব এই যুগে! আসলেই এই নিঃশব্দ ভালোবাসার গল্প কদর করতে হয় কারন এখনে আছে শুধুই ভালোবাসা। চলুন তাহলে শুরু করি নিঃশব্দ ভালোবাসার গল্প।

নিঃশব্দ ভালোবাসার গল্প

নিঃশব্দ ভালোবাসার গল্প
নিঃশব্দ ভালোবাসার গল্প

আজকে অনেক দেরীতে ঘুম ভাঙ্গলো মিমের। ঘুম থেকে উঠেই সে এক দৌড়ে ছাদে গেল। পাগলের মতো খুজতে লাগলো আজকে কিছু আছে কিনা দেখতে।

পরক্ষণেই খুজে পেল একটা চিঠি আর একটা চকলেট। এটা মিমের প্রিয় চকলেট। চিঠিটা খুললো মিম। বরাবরের মতো আজকে ও লেখা “তোমার জন্য মিম”। কিন্তু আজকে একটু বেশি কিছু লিখা আছে। “দুইদিন আসবো না নিজের খেয়াল রেখো।”

চিঠি টা পরেই মন খারাপ হয়ে গেল মিমের। দুইদিন আসবে না মানে দুইদিন চিঠি পাবে না। অবশ্য চিঠি তে তেমন কিছু থাকে ও না। কিন্তু তারপর ও সারাদিন মিম এই চিঠি পরার জন্য অপেক্ষা করে থাকে।

খুব বেশী দিন হয়নি এই চিঠি পাচ্ছে মিম। হঠাৎ ই একদিন ছাদে এসে মিম দেখলো ফুলের টবের মাটি আলগা যেন কেউ মাত্র খুড়ে গেলো। ভালো করে খেয়াল করে দেখলো মাটির একটু নিচে একটা কাগজ।

মাটি সরাতেই দেখলো সেখানে অনেক গুলো কাগজ। মিম অধীর আগ্রহ নিয়ে যেইনা কাগজ খুললো অমনিতেই দেখলো কেউ একজন মিমকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখেছে। সেই থেকেই শুরু।

আস্তে আস্তে এমন একটা অভ্যাস হয়েছে মিমের যে চিঠি না পরলে আর ভালো লাগেনা। আচ্ছা এটাই কি ভালবাসা??? মিম যে চিঠি লিখেনি তেমন কিন্তু নয়। মিম ও চিঠি লিখেছে তার প্রতিউত্তরে সে ও উত্তর দিয়েছে।

কিন্তু মিম যে এখনো তার নাম ই জানে না। অনেক কৌতুহল মিমের মনে। তাকে অনেকবার নাম জিজ্ঞেস করার পর ও যে সে নাম বলেনি। শুধু বলেছে ধৈর্য ধরো। এইতোআমি।

আজ পনেরো দিন হয়ে গেল চিঠি আসছে না। মিমের কাছে একটা দিন যেন একটা বছর সমান মনে হতে লাগলো। এর মধ্যেই হঠাৎ করে মিমের সাথে ওর বাবার বন্ধুর ছেলের বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। ছেলেটির নাম রায়ান।

এই ছেলেটাকে মিমের একদম ই পছন্দ হয়না। মিম চঞ্চল স্বভাবের। সারাদিন বাড়ি মাথায় করে রাখে অথচ রায়ান ঠিক তার উল্টো। এদিকে মিমের কোন কথাই কেউ শুনছে না। সবাই ই চায় রায়ানের সাথেই মিমের বিয়ে হোক। কিন্তু মিম যে একজনকে ভালোবাসে। তার কি হবে?? সেই লোকটি ও এখন লাপাত্তা। কি করবে মিম??

দেখতে দেখতে বিয়ে হয়ে গেল মিমের। পরিজনদের ত্যাগ করার পাশাপাশি অচেনা সেই লোকটার জন্য আজকে চাপা কষ্ট অনুভূত হচ্ছে মিমের।

মিম এখন ওর শ্বশুরবাড়িতে। বিয়ের সময় ও রায়ানের দিকে যতবার তাকিয়েছে ততবারই গা জ্বলছে মিমের। বাসরঘরে আসার পর থেকেই মিমের অস্থিরতা বেরে যাচ্ছে।

রায়ানকে কিছুতেই সহ্য হচ্ছে না ওর। এরমধ্যে রায়ান ঘরে প্রবেশ করে। মিম চিৎকার করে উঠে। রায়ান হকচকিয়ে যায়। পরমুহুর্তেই মিমের হাতে কিছু কাগজ দিয়ে চলে যায় রুম থেকে।

মিম অনাগ্রহে কাগজ গুলো দেখে। omg!!!এতো মিমের লেখা সেই চিঠি গুলো যেগুলো ও লিখেছিলো সেই অচেনা লোকটিকে। তবে কি সেই লোক রায়ান!!

মিম তাকিয়ে দেখলো রায়ান ওর দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিল। মিম ও লজ্জায় মাথা নিচু করে ভাবলো এই গোমরামুখো টা ই কি আমাকে এতো ভালবাসে!!

এরপর আস্তে আস্তে এগুতে থাকে মিম রায়ানের নিঃশব্দ ভালোবাসার গল্প …..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *