এক জীবনের ভালোবাসার গল্প

এক জীবনের ভালোবাসার গল্প

আজকের এক জীবনের ভালোবাসার গল্প টা যে শুরু ব্যর্থতা দিয়ে। মানুষ জীবনে কখনো সফল হবে আর কখনো বিফল। এটাই তো সাভাবিক, তাই না? কিন্তু যদি কোনো মানুষ সমাজের সব নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু একটা করে বিফল হয় সেটাকে কেনো যেনো মানতেই চায় না আমাদের সমাজ। এই রকমই একটা কিছু হয়েছে রাহিমের জীবনে। চলুন শুরু করি ভালোবাসার গল্পটা।

এক জীবনের ভালোবাসার গল্প

এক জীবনের ভালোবাসার গল্প
এক জীবনের ভালোবাসার গল্প

রাহিম অন্য সব সাধারন ছেলের মতো বড়হলেও কেনো জেনো সে সব সময় নিজের মতো করে সব কিছু ভাবতো। নিজের মতো ভাবতে গেলে তো সব ইচ্ছা করে সব কিছু নিজের মতো করতে।

কিন্তু সেটা পারতো না। কারন নানা রকম বাঁধা আসতো। আসতে আসতে বড় হলো, নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বিষয় কম্পিউটার নিয়েই লেখাপড়া করার সুযোগ পেলো। কিন্তু CSE তে পড়তে গিয়ে সে তো অবাক হয়ে গেলো যখন দেখলো CSE তে Accounting সহ আরো নানা রকমের ফালতু subject.

এ আবার কি রকম লেখাপড়া রে ভাই! অনেক শিক্ষক আর অতি জ্ঞানী মানুষ আবার যুক্তি দিয়ে বলে যে software বানাতে গেলে, এছাড়া আরো বিভিন্ন কাজের জন্য CSE তে Accounting, Physics লাগে।

বাহ! চমৎকার তো যুক্তিটা। তাহলে যারা Accounting / Physics নিয়ে লেখা পড়া করে তারা কি ঘোরার ঘাস কাটবে!

এটার ও আবার যুক্তি দেয় কিছু শিক্ষক আর অতি জ্ঞানী মানুষ। তারা বলে, এই তো সামান্য একটু পড়ায় Accounting / Physics, এখানে তো বিস্তারিত পড়ানো হয় না Accounting / Physics etc. etc. etc.

বিস্তারিত যদি পড়ানোই না হয় তাহলে একটু পড়িয়ে লাভ টা কোথায়! যাই হোক। আমরা সবাই এই সব লেখাপড়ার নিয়ম সাভাবিক ভাবে মেনে নিলেও রাহিম কেনো যেনো মেনে নিতে পারেনি।

তাই তো সে লেখাপড়া করে কম, আর কাজ করে বেশি। তা কি কাজ করে রাহিম?

নিজের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করে, বিশেষ করে technology নিয়ে। আর মজার বেপার হলো যে তার ওয়েবসাইট গুগোলের পছন্দ হওয়াতে সেটাকে approve করে নে Google Adsence এর জন্য।

রাহিম তো মহা খুশি। সে প্রায় ৫ বছর যাবত চেষ্টা করেছিলো এই রকম একটা কিছুর। কিন্তু লেখাপড়া আর ওয়েবসাইট চালানো একসাথে সম্ভব না মোটেও।

তাই তো রাহিম লেখাপড়ার বেপারে খুব একটা গুরুত্ব না দিয়ে সারাক্ষন ওয়েবসাইট নিয়ে পরে থাকতো। কিন্তু রাহিমের Girl Friend জেরিন সেটা নিয়ে অনেক রাগা রাগী করে প্রায় প্রতিদিন।

আসলে জেরিন রাহিমকে খুব ভালোবাসে আর জেরিন চায় না যে রাহিমকে তার জীবন থেকে হারাতে। রাহিম ও জেরিনকে শুধু ভালোইবাসে তা না, রাহিম চায় জেরিনকে সারাজীবন কাছে পেতে।

রাহিম যখন দেখলো লেখাপড়া শেষ করে সবাই চাকরির জন্য এতো কষ্ট করে কিন্তু চাকরি পায় না। আর চাকরি পেতে হলে আগেই নাকি মানুষ জমা দেয় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা!

রাহিম ভাবলো যে সে ওয়েবসাইট এর পেছনে সময় দিয়ে অনেক উন্নতি করতে পারবে। কিন্তু এটাকে পছন্দ করতো না জেরিন। আসলে জেরিন ভাবতো যে রাহিম যদি লেখাপড়া শেষ না করে তাহলে তো তার পরিবার রাহিমকে মেনে নিবে না কখনো, যেটা সে চায় না।

রাহিম কিছুটা নিজের ভবিষ্যতের সাথে বাজি ধরলো। লেখাপড়া কিছুদিনের জন্য বন্ধ রেখে মনপ্রান দিয়ে ওয়েবসাইট নিয়ে পরে থাকলো। এরই মাঝে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে রাহিমকে।

কখনো পরিবারে সদস্যদের বকা, আর কখনো জেরিনের বকা। সব মিলিয়ে অনেক খারাপ সময় যাচ্ছিলো রাহিমের। কোনো ভাবেই সফল হতে পারছিলো না সে।

এক জীবনের ভালোবাসার গল্প টা অন্য একটা রুপ নিলো যখন রাহিম বুদ্ধির জোরে তার ওয়েবসাইটাকে এতো উপরে নিয়ে গেলো যে সেখান থেকে সে প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লাখ টাকা কামানো শুরু করলো।

আসতে আসতে রাহিমের জীবনের চাকা ঘুরে গেলো। রাহিম এখন এদেশের সবচাইতে কম বয়সী ধনী আর সে তার পরিশ্রম দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে আসলে আমরা যেটাকে লেখাপড়া বলি সেটা আসলেই লেখা আর পড়া ছাড়া কিছুই না।

লেখাপড়া করা আর শিক্ষা গ্রহন করা দুইটা ভিন্ন বেপার।

জেরিন আর রাহিম বিয়ে করেছে। এক জীবনের ভালোবাসার গল্প টা এখানেই শেষ নয়। এই এক জীবনের ভালোবাসার গল্প কখনো শেষ হবে না। চলতেই থাকবে।

এখন লেখাপড়া যেনো একটা ভালো business sector হয়ে গেছে। যে যে যার যার মতো পড়াচ্ছে। একটা university র সাথে অন্য আরেকটা university র মিল খুজে পাওয়া খুবই মুশকিল।

রেজাল্ট কে গুরুত্ব যে দেয় সে জীবনে কিছুই করতে পারে না, আর যে শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয় সে অনেক কিছু শিখে জীবনেটাকে পালটে দিয়ে ভালোবাসার মানুষকে অবাক করে দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *