অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প

অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প

মানুষ প্রায় ভুল করে নিজের কাছের মানুষটাকে চিনতে আর সেখান থেকেই শুরু হয় অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প যা কখনো সমাপ্ত হয় না। তবে মাঝে মাঝে সেই ভুলের পরিমানটা এতো বেশি হয়ে যায় যে সেই ভুলটা সংশোধন করার মতো আর কোনো উপায় থাকে না আর। চলুন শুরু করি অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প যা আপনাদের কিছু একটা শেখাবে জীবন নিয়ে।

অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প

অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প
অসমাপ্ত ভালবাসার গল্প

ফাহিম আর রিয়া বেস্ট ফ্রেন্ড। সেই ছোটবেলা থেকে ওরা একসাথে একই স্কুলে পড়াশোনা করেছে। kg স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত ওরা বন্ধুত্ব টিকিয়ে রেখেছে। রিয়া যদিও ফাহিমকে মনেমনে ভালোবাসে কিন্তু ফাহিম কখনোই রিয়া কে ভালোবাসেনি। একদিন ফাহিমের সাথে রিয়া ওর এক বান্ধবীর পরিচয় করিয়ে দেয়। মেয়েটি হিন্দু। নাম প্রিয়া।

সেদিন রাতে ফাহিম দেখলো প্রিয়া ওকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। ফাহিম তা এক্সেপ্ট করলো। এদিকে রিয়া কিছুদিনের জন্য নানিবাড়ি বেড়াতে চলে যায়। এরমধ্যে ফাহিম ও প্রিয়ার বন্ধুত্বটা প্রেমে রূপান্তরিত হয়ে যায়।

দুজন দুজনের পরিবার ধর্ম সব ভুলে একটা নতুন সম্পর্কে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছে। এদিকে রিয়া নানিবাড়ি থেকে ফিরে এসে দেখে ফাহিম আর প্রিয়া একজন আরেক জনকে ভালোবাসে। আর প্রিয়ার জন্য ফাহিম অনেক পাগলামি করছে।

রিয়ার পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে গেল। সারাক্ষণ রিয়ার চোখে ভাসতে লাগলো ফাহিমের করা পাগলামি গুলো। রিয়া যেন হঠাৎ একা হয়ে গেল। আগে ফাহিম ছিলো প্রিয়া ছিলো। এখনো আছে তবে নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। রিয়ার কথা হয়তো ওরা ভুলেই গেছে।

রিয়া আর এসব সহ্য করতে পারছিলোনা। তাই একদিন রিয়া মনেমনে ভাবলো ওদের দুইজনের থেকে দুরে সরে যাবে। যত দূরে গেলে ফাহিম ও প্রিয়া নামে কোন মানুষ থাকবে না। রিয়া সেই ভাবনা মতো কাজ কাজ করা শুরু করে দিল।

অর্থাৎ ফাহিমকে না জানিয়ে ওরা ঢাকা চলে গেল। পুরো পরিবার এখন থেকে ঢাকায় থাকবে আর রিয়া এখানে থেকেই গ্রাজুয়েশন কম্পলিট করবে।

তিন মাস পর ….

ফাহিম হঠাৎ একদিন রিয়াকে ফোন দিল। দেখলো রিয়ার নাম্বার অফ। ফাহিম রিয়াকে ফোনে না পেয়ে ফেসবুকে নক দিতে গেল আর তখনই ফাহিম বুঝলো রিয়া ওকে ব্লক করেছে।

ফাহিম অবাক হলো অনেক ভেবেও রিয়ার এমন কাজের কারণ খুজে পেল না। এমনকি সে এটাও জানেনা কবে রিয়া ওকে ব্লক করেছে। কিন্তু রিয়ার সাথে যে কথা বলতেই হবে ফাহিমকে। ফাহিম প্রিয়াকে ফোন দিল সে কিছু জানে নাকি জানতে।

কিন্তু প্রিয়া এ কি বললো!! প্রিয়া অনেক খুশি হয়েছে জেনে যে রিয়া ফাহিমকে ব্লক করেছে। ফাহিম যেন আরও অবাক হয়ে যাচ্ছে। পরক্ষণেই ফাহিম বুঝলো রিয়া ওকে ভালোবাসতো আর এটা প্রিয়া ভালো করেই জানত। অথচ রিয়া কোনো দিন ও ফাহিমকে এটা বুঝতে দেয় নি।

তাই হয়তো ফাহিমের জীবন থেকে এভাবে চলে গেছে। ফাহিমের এখন বড্ড একা লাগছে কারণ রিয়া ওর বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো। প্রিয়ার জন্য ওকে ওর বেস্ট ফ্রেন্ডকে হারাতে হলো।

এদিকে ফাহিম ও গ্রাজুয়েশন কম্পলিট করতে একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হলো। কাকতালীয় ভাবে রিয়া ও এই ভার্সিটিতে ই পড়ে।

একদিন ক্যাম্পাসে রিয়া ও ফাহিমের দেখা হয়ে যায়। ফাহিমকে দেখার সাথেসাথেই রিয়া যেন একটা কারেন্টের শক খায়। আর ফাহিম অনেক খুশি হয়ে ওর সাথে কথা বলে।

রিয়া ওর চাপা কষ্ট টা ফাহিমকে বুঝতেই দেয় না। ও নর্মাল ভাবেই কথা বলে ফাহিমের সাথে। তারপর রিয়া নিজেকে ব্যস্ত দেখিয়ে চলে আসে। ফাহিম সেটা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারে না।

রাতে বাসায় এসেই ফাহিম প্রিয়াকে সব বললো। প্রিয়া যেন একটু রেগেই গেল রিয়া ঐ ভার্সিটিতে পরে শুনে।

এদিকে ভার্সিটিতে রিয়ার পরিচয় হয় আকাশের সাথে। আকাশ তেমন একটা ভালো ছেলে না। মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করাই অভ্যাস ওর। এর আগে রিয়ার একমাত্র ছেলে বন্ধু ছিলো ফাহিম। ও কোনদিন রিয়ার সাথে ফ্লার্ট করেনি তাই হয়তো ফ্লার্ট কি সেটা রিয়া বুঝতো না।

আকাশ তার স্বভাব মতো সবসময় রিয়ার সাথে ফ্লার্ট করতো। একদিন সে রিয়াকে প্রোপোজ করলো। কিন্তু আকাশ কখনোই সিরিয়াস ছিলনা। যাস্ট টাইম পাস ছিলো এটা।

এদিকে রিয়া ও আকাশের নতুন একটা জীবন শুরু হলেও কেউ ই সুখী ছিলো না। রিয়া যে কিনা সবসময় আকাশের মাঝে ফাহিমকে খুজতো আর আকাশ যে কিনা সবসময় রিয়াকে ইউস করতে চাইতো সবার মতো।

ফাহিম যেন এখন বুঝতে পারছে রিয়া কেন ওকে ব্লক করেছিল কেন ওর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল। ফাহিম এখন বুঝতে পারছে প্রিয়ার প্রতি ওর ভালোলাগা ছিলো ভালোবাসা নয়।

কিন্তু এখন অনেক দেরী হয়ে গেছে অনেক দেরী। এদিকে প্রিয়ার বিয়ে হয়ে যায় ওর ধর্মীয় কোন এক লোকের সাথে। ফাহিমের জীবন টা যেন দিনদিন দুর্বিষহ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে বেচেঁ থাকা অসম্ভব। তাই ফাহিম স্কলারশীপ নিয়ে চলে যায় অদূর দেশে।

সব লাভ স্টোরির happy ending হয় না। কোনো কোনো টার sad ending ও হয়। এটাও এমন একটা গল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *