অবাধ্য ভালোবাসার গল্প

অবাধ্য ভালোবাসার গল্প

এই অবাধ্য ভালোবাসার গল্প তে অবাধ্য কে? জানতে কি ইচ্ছা করে কার অবাধ্য হওয়ার জন্য ৫ বছরের পুরোনা একটা সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গিয়েছিল? সব কিছুই আজকে জানতে পারবেন। আজকে এমন একটা মানুষের গল্প নিয়ে এসেছি যে মেয়ে ভালোবাসার মানুষের চেয়ে বন্ধু বান্ধবীদের বেশি গুরুত্ব দিয়ে তার জীবনের সবচেয়ে দামী জিনিসটা হারিয়েছে।

অবাধ্য ভালোবাসার গল্প

অবাধ্য ভালোবাসার গল্প
অবাধ্য ভালোবাসার গল্প

রুপার বয়স ৮৫ বছর প্রায়। বিয়ে করেনি এখনো। কবরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে। লাঠি ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক বয়স হয়েছে তো, আগের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।

রুপা দাঁড়িয়ে আছে আর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। আর কি যেনো ভাবছে। কি ভাবছে রুপা! চলুন তাহলে শুরু করি অবাধ্য ভালোবাসার গল্প আর খুজে বের করি কেনো কাঁদছে রুপা আর কেনোই বা এই গল্পের নাম অবাধ্য ভালোবাসার গল্প আর কেনোই বা বিয়ে করেনি রুপা!

এমনিতে খুব ভালো একটা মেয়ে ছিলো রুপা। কিন্তু কথায় বলে না, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। ঠিক সেটাই হয়েছিলো রুপার সাথে। তবে রুপার জীবনের মোর ঘুরিয়ে দিতে রুপার জীবনে এসেছিলো ফাহাদ।

খুব সাধারন শান্ত ভদ্র একটা ছেলে ফাহাদ। আর অনেকটা পুরানো দিনের মানুষের মতো সে। এখনকার সমাজের ছেলেমেয়দের ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের নামে নষ্টামি থেকে সে থাকে ১০ হাত দূরে।

কিভাবে কিভাবে যেনো রুপার সাথে ফাহাদের পরিচয় হয় ফেসবুকে। আসলে ফাহাদ তার কিছু পরিচিত খারাপ ছেলেদের সাথে রুপার friendship দেখে অনেক অবাক হয়েছিলো আর কেনো যেনো অনেক মায়া লেগেছিলো ফাহাদের।

ফাহাদ চেয়েছিলো রুপাকে শুধু বোঝাতে যে ও যাদের বন্ধু ভাবে তারা আসলে যে রুপার শত্রু সেটা রুপাকে বোঝাতে।

কিন্তু রুপা ছিলো অনেক লক্ষি একটা মেয়ে। সে ফাহাদের মতো ভালো একটা ছেলেকে দেখে ওর প্রেমে পরে যায় আর রুপাই ফাহাদকে propose করে। ফাহাদ ও মনে মনে রুপাকে অনেক পছন্দ করতো তাই ফাহাদও রুপাকে মেনে নেয়।

যদিও ফাহাদ জানতো না যে রুপা লুকিয়ে লুকিয়ে তার বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখে আর নিয়মিত কথা ও বলে। তবে রুপা শুধু তার ছেলে বন্ধুদের সাথে সাভাবিক ভাবেই যোগাযোগ রাখতো। এর বেশি কিছু ছিলো না।

কিন্তু রুপার বন্ধুরা ছিলো খারাপ। ওরা চাইতো যে রুপা যেনো ফাহাদের থেকে দূরে চলে আসে। কারন এখনকার ছেলেরা নিজেদের ততো হিরো ভাবে যার যতো মেয়ে বন্ধু আছে। আর ফাহাদের সাথে relation এর পর থেকে রুপা ওর ছেলে বন্ধুদের সাথে কথা বলা আর যোগাযোগ করা আগের থেকে কমিয়ে দেয় কিন্তু চালিয়ে যাচ্ছিলো কথা বলা আর যোগাযোগ করা।

এক সময় ফাহাদ জানতে পারে যে রুপা তার ছেলে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখে। রুপা জানে ওরা ভালো না, রুপা নিজে মুখেই বলে ওর ছেলে বন্ধুগুলো ভাল না, কিন্তু তাও রুপা কখনো তার ছেলে বন্ধুদের সাথে একেবারে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দেয় নি যেটা ফাহাদ চেয়েছিলো।

রুপার সাথে ওর কচিং এর একটা ছেলের সাথে অনেক ভালো বন্ধুত্ব ছিলো, কিন্তু সবাই ভাবতো যে ওদের relation আছে, তাই ফাহাদ বলেছিলো যে রুপাকে ঐ কোচিং ছেড়ে দিতে। কিন্তু রুপা সেটা ও করেনি। বলেছিলো যে ও অন্য স্যারের পড়া বোঝে না তাই রুপা ওর কোচিং change করেনি।

ফাহাদেকে রুপা অনেক ভালোবাসতো কিন্তু কখনো ফাহাদের কথা মেনে চলেনি, তাও ফাহাদ রুপাকে কখনো ছেড়ে যায়নি।

অবশেষে এলো রুপার কলেজের শেষ সময়টা। রুপাদের কলেজে ওর সব বন্ধুরা মিলে পার্টি দিয়েছিলো, আর রুপার উপরে পরে সেই পার্টির রুম সাজানোর কাজ।

রুম সাজানো তো দূরের কথা, ফাহাদ রুপাকে বলেছিলো যে ঐদিন যেনো কলেজে ও না যায়। কিন্তু রুপা কথা শোনেনি। কলেজে গিয়েছিলো।

আর একটা কথা তো বলাই হয়নি, ফাহাদ আর রুপা আলাদা কলেযে পড়ে। ফাহাদ অনেক বড় একটা company র মালিক আর জেনে অবাক হবেন যে এতো অল্প বয়সে ফাহাদ এতো কিছু করেছে শুধু মাত্র রুপাকে পাওয়ার জন্য কারন রুপা ফাহাদের চেয়ে ৩ মাসের বড় আর এক কথায় ওরা সম বয়সের হওয়াতে ফাহাদের সব সময় ভাবতো যে যদি রুপার অন্য কোথাও বিয়ে হয়ে যায়, তাই ফাহাদ খুব অল্প বয়সে নিজে বুদ্ধি খাটিয়ে অনেক বড় একটা কম্পানির মালিক হয়।

তবে যখন রুপার সাথে ফাহাদের relation শুরু হয়েছিলো তখন ফাহাদের কিছুই ছিলো না, ছিলো একটা সাধারন কলেজ পড়ুয়া ছেলে।

যাই হোক, রুপাকে বারন করার পরে ও রুপা যখন ফাহাদের কথা না মেলে কলেজে গেলো তখন ফাহাদ রুপাকে call দিয়েছিলো কি করছে সেটা জানতে।

রুপা ফাহাদের call টা বিরক্তের সাথে recive করে ওকে বললো যে ও কলেজে আছে। কিন্তু ফাহাদ খেয়াল করলো যে রুপার আশে পাশে কিছু ছেলে কথা বলছে।

তারা রুপার সাথে কথা বলছে কিনা এমন কিছু বোঝা যায় নি, কিন্তু রুপার আশে পাশে ছেলেদের কন্ঠ শুনে এতো দিনের relation এ এই প্রথম বার ফাহাদ রাগ করলো রুপার সাথে।

রাগ করারই কথা, কলেজে মানা করার পরেও রুপা গেলো আর সেটা আশে পাশে ছেলেদের গলা শুনে ফাহাদের মনে লেগেছে, সহ্য করতে পারেনি ফাহাদ।

ফাহাদ তখন রাস্তায় ছিলো, আর ছিলো একেবারেই বেখায়াল অবস্থায়। সামনে থেকে কখন যে একটা গাড়ি এসে ফাহাদকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেলো সেটা খেয়াল করেনি ফাহাদ।

রুপা তখন কলেজে, আবার ফোন এলো ফাহাদের মোবাইল নাম্বার থেকে রুপার কাছে। রুপা এইবার একটু নরম হয়ে ফাহাদের call টা recive করলো আর মনে মনে ভাবছিলো যে ওকে sorry বলবে। আর আসলে হয়েছিলো কি, রুপা অনেক ভালো করে রুম সাজাতে পারে, তাই রুপাকে ওর কলেজে টিচাররা ডেকে নিয়েছিলো, আশে পাশে টিচার ছিলো বলে রুপার অনেকটা বিরক্ত হয়ে ফাহাদের call টা receive করেছিলো আগের বার। কারন টিচারদের সামনে কি আর boyfriend এর call recive করা যায়! কিন্তু তাও রুপা recive করেছিলো কারন ফাহাদ হলো রুপার কলিজার টুকরা। ফাহাদ call করলে রুপা সেটা recive না করে থাকতে পারে না।

যাই হোক, এইবার অন্য কারো কন্ঠ শুনতে পেলো রুপা যখন ফাহাদের মোবাইল থেকে পরের বার call টা আসলো। রুপার কেমন যেনো লাগছে বুকের ভেতর টা যখন রুপা call recive করে ফাহাদের কন্ঠ না শুনে অন্য কারো কন্ঠ শুনলো।

ও পাশ থেকে ফাহাদের ভাইয়ের কন্ঠ, কাঁদছে ফাহাদের ভাই। রুপার এবার টিচারদের সামনেই মোবাইলে জোরে চিতকার করে জিজ্ঞেস করলো, “ফাহাদ কোথায় ভাইয়া!”

কি বলেছিলো ফাহাদের ভাই সেটা কেউ জানে না। সবাই শুধু দেখেছিলো রুপা দৌড়ে বের হয়ে গেলো কলেজ থেকে।

রুপা হাসপাতালে এলো। ফাহাদ ICU তে আর ফাহাদের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ওর বাবা আর ভাই, আর ফাহাদের মা বার বার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে ছেলের এই অবস্থা দেখে। ফাহাদ তার বাবা মায়ের এক মাত্র ছেলে, আর পাশে যে ভাই দাঁড়িয়ে আছে ওটা ফাহাদের চাচাতো ভাই। ছোট বেলা থেকেই এক সাথে বড় হয়েছে ওরা দুই ভাই, থাকে আপন ভাইয়ের মতোই আর সবাই আপন ভাই ভাবে ওদের।

রুপা ICU র ভেতরে গেলো। ফাহাদের বাবা মা ভাই সবাই জানে ফাহাদ আর রুপার সম্পর্কের কথা।

রুপার ভেতরে যাওয়ার পরে ফাহাদ রুপার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিলো। ফাহাদের এই অবস্থা দেখে রুপার মনে হচ্ছে যেনো কেউ রুপার কলিজাটা টুকরা টুকরা করছে।

ফাহাদ রুপাকে আস্তে আস্তে কিছু কথা বললো, ” বলেছিলাম না তোমার আগে আমি মরে যাবো? বলেছিলোম না আমি মরে গেলে কেউ আর তোমাকে বাধা দিবে না তোমার ছেলে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করতে। এই যে দেখো আমি আমার কথা রেখেছি, আমি চলে যাচ্ছি। বড় কষ্ট দিলে আমায় তুমি, বড় কষ্ট পেলাম। ”

এরপর কই যেনো হলো ফাহাদের, ডাক্তাররা রুপাকে ICU থেকে বের করে দিলো। রুপা বাইরে থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে ডাক্তাররা কতো কি যে করছে ফাহাদকে। কিন্তু ফাহাদ আর কথা বলছে যে, একটু নড়াচড়া ও করছে না।

হঠাত ভেতরের সব ডাক্তার তাদের ব্যস্ততা থামিয়ে দিলো, সবাই চুপচাপ। একজন ডাক্তার বেরিয়ে এলো ICU room থেকে।

ডাক্তারকে দেখে ফাহাদের মা দৌড়ে গেলো জিজ্ঞেস করতে তার ছেলে কেমন আছে। ডাক্তার অনেকক্ষন চুপ থাকার পরে উত্তর দিলো, “ফাহাদ আর নেই”।

একমাত্র আদরের ছেলেটা মায়ের চোখের সামনে এভাবে দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবে এটা কি কোনো মা সহ্য করতে পারে? ফাহাদের মা ও পারনি, তাই তো ফাহাদ নেই এই কথাটা ডাক্তারের মুখে শোনার পরেই ফাহাদের মা ও………………

কিছুদিনের মধ্যে ফাহাদের বাবা ও চলে গেলেন দুনিয়া ছেড়ে ছেলে আর স্ত্রী হারানোর কষ্ট সহ্য করতে না পেরে।

ফাহাদের কম্পানির মালিক হলো রুপা। কম্পানির থেকে যে টাকা আসে রুপা তার সবটা খরচ করে মসজিদ মাদ্রাসা আর গরিবদের দান করে। আর কিছু টাকা খরচ করে আধুনিক যুগের ছেলে মেয়েদের এটা বোঝাতে যে, “প্রেমের সম্পর্ক ছাড়া একটা ছেলের মেয়ে বন্ধু থাকা আর একটা মেয়ের ছেলে বন্ধু থাকা ঠিক না। এটা অন্যায়, আর যাদের ভালোবাসার মানুষ আছে তারা যেনো তার ভালোবাসার মানুষের কথা সব সময় মেনে চলে, তা না হলে জীবনের সব চেয়ে দামী জিনিসটা হারাতে হবে।”

কবরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই অবাধ্য ভালোবাসার গল্প তে রুপা হঠাত করে পরে গেলো মাটিতে। ৮৫ বছরের রুপার প্রেমের যন্ত্রনাটা যে ৬৫ বছর যাবত বয়ে বেরাচ্ছে। আর পারছে না সে। তাই তো সেও ফাহাদের দেশে চলে গেলো, ফাহাদের দেয়া সেই অভাশাপের শাস্তি থেকে মুক্তি মিলেছে রুপার।

অবাধ্য ভালোবাসার গল্প থেকে একটাই শিক্ষা নিতে পারি আমরা, সেটা হচ্ছে, কখনো কোনো মেয়ের উচিত না তার boyfrind থাকার পরেও অন্য ছেলে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখা আর কোন মেয়ের উচিত না তার মনের মানুষকে কষ্ট দিয়ে তার বন্ধুদের আবদার কিংবা তার স্কুল বা কলেজের টিচারদের আবদাত পূরণ করা। কারন বাইরের মানুষের চেয়ে মনের মানুষটা হাজার গুন দামী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *